1. admin@dailyamarpranerhabiganj.com : admin :
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে ১৯ পার্থীর মনোনয়ন দাখিল। কবিতাঃ ঈদ লেখকঃ খোকন মিয়া। কবিতাঃ মামুঃ লেখক খোকন মিয়া। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের অতর্কিত হামলায় সহজ সরল কিশোর গুরুতর আহত! আশংকাজনক ভাবে সিলেট ওসমানীতে প্রেরণ। ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে শেরপুর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের উদ্যোগে ৪২টি গ্রামের ৮৮১ জনকে নগদ অর্থ বিতরন । নবীগঞ্জে এম এ গফুর চৌধুরী কল্যান ট্রাষ্টের উদ্দ্যেগে দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠিত। ঈদকে সামনে রেখে চুর-ডাকাতের আংতংক! হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ডাকতির প্রস্তুতিকালে ২ ডাকাত পুলিশের হাতে গ্রেফতার। হবিগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ছোবহান হত্যা মামলার ৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯ নবীগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা ৮ হামলাকারী জেল হাজতে। নবীগঞ্জে আল আমিন হাশেমী সুন্নিয়া মাদ্রাসায় এতিম শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত। ।

আয়েশা আবেদের জীবন ছিল প্রকৃতই কর্মময়। তাঁর কর্মভাবনার মূলে ছিল এদেশের দরিদ্র মানুষ।

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০২৩
  • ২১১ বার পঠিত

 

মোঃ আশিকুর রহমান আজমিরীগঞ্জঃ

ব্র্যাকের সূচনার দিনগুলোতে সমস্ত কর্মপ্রয়াসের সঙ্গে একটি উজ্জ্বল নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে ছিল। সেই নাম আয়েশা হাসান আবেদ।

আয়েশা আবেদের জীবন ছিল প্রকৃতই কর্মময়। আর তাঁর কর্মভাবনার মূলে ছিল এদেশের দরিদ্র মানুষ। একাধারে তিনি ছিলেন কর্মী, সংগঠক এবং পরিকল্পক, অন্যদিকে নিজের পরিবারপরিজন এবং বন্ধুদের কাছে তিনি ছিলেন স্নেহ এবং ভালোবাসার আশ্রয়।
এই মহীয়সী নারীর নাম ব্র্যাকের অস্তিত্ব ও কর্মধারার সঙ্গে আজও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। ব্র্যাককর্মী এবং কর্ম-এলাকার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন ‘ভাবী’ আর পরিবারপরিজন ও বন্ধুদের কাছে তিনি ছিলেন ‘বাহার’। যে নামেই ডাকা হোক, অকালমৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনিই ছিলেন ব্র্যাকের আত্মা। গভীর মমতা এবং অসাধারণ ব্যক্তিত্বের আভায় তিনি ব্র্যাকপরিবারের সকলকে নিবিড় বন্ধনে বেঁধেছিলেন। ব্র্যাকের উত্থানকালের সেই গতিশীল দিনগুলোতে ফজলে হাসান আবেদের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়ে তিনি এসে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর পাশে। অসহায় দরিদ্র মানুষকে সংগঠিত করে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্র্যাকের যে অঙ্গীকার, তারই সঙ্গে নিজেকে তিনি একাত্ম করে নিয়েছিলেন।
আয়েশা আবেদের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৩ই জানুয়ারি ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ শহরে। তাঁর পিতা ইয়াহিয়া খান চৌধুরী ছিলেন তদানীন্তন ব্রিটিশ-ভারতের করিমগঞ্জ মহকুমার প্রশাসক। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে আয়েশা ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। পিতার চাকরিসূত্রে ছোটোবেলা থেকে দেশের বিভিন্ন শহরে তিনি বেড়ে উঠেছেন। ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে সিনিয়র কেম্ব্রিজ পাশ করার পর তিনি কুষ্টিয়া কলেজে অধ্যয়ন করেন। এখান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ঢাকার হলিক্রস কলেজে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ পরীক্ষায় হলিক্রস কলেজ থেকে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭২-৭৩ সালে তিনি ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করেন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে ব্র্যাক তখন সবেমাত্র তার যাত্রা শুরু করেছে। সুনামগঞ্জের শাল্লায় শুরু হয়েছে ব্র্যাকের সম্ভাবনাময় অগ্রযাত্রা।

১৯৭৩ সালের ৭ই এপ্রিল ফজলে হাসান আবেদের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের কিছুদিন পরেই আয়েশা আবেদ শাল্লায় গিয়েছিলেন। সেখানে তখন পুরোদমে চলছে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ। যুদ্ধফেরত সহায়সম্বলহীন মানুষ জীবনকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত হয়েছে। তাদের সুখ-দুঃখ এবং জীবনসংগ্রামের অংশ হয়ে ব্র্যাককর্মীরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বন্ধুর মতো। সেখানেই ব্র্যাকের এই বিপুল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরিচয় হলো আয়েশা আবেদের। মানুষের জীবনসংগ্রাম তাঁকে আলোড়িত করেছিল। গ্রামবাংলার মানুষের সঙ্গে কাজ করবার এক গভীর তাড়না অনুভব করেন তিনি।

বস্তুত, উন্নয়নকর্মকাণ্ডের শুধু প্রায়োগিক দিক নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক ও দার্শনিক দিক নিয়ে সমান আগ্রহ ছিল তাঁর। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮১ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি ব্র্যাকের মাসিক পত্রিকা ‘গণকেন্দ্র’-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এই পত্রিকার বিকাশ ও গণমুখী চরিত্রের জন্য তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস। একটি ন্যায়ভিত্তিক, বঞ্চনামুক্ত এবং সমৃদ্ধিশালী সমাজগঠনে তাঁর সুদৃঢ় অঙ্গীকার এই পত্রিকায় প্রতিফলিত হয়েছিল।

বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীসমাজ, পরিবারকাঠামোতে তাদের অবস্থান এবং তাদের ক্ষমতায়ন বিষয়ে আয়েশা আবেদ গভীরভাবে আগ্রহী ছিলেন। তিনি ছিলেন দরিদ্র ও পশ্চাৎপদ মানুষের মুক্তি অন্বেষায় একজন সক্রিয় কর্মী। সামগ্রিক উন্নয়নকর্মকাণ্ডে নারীদের যুক্ত করে কীভাবে তাদেরকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা যায়, সেই ভাবনা তাঁকে আজীবন অধিকার করে ছিল। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ব্র্যাকের শাল্লা, মানিকগঞ্জ ও জামালপুর প্রকল্পের কর্মসূচিসমূহে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষত গ্রামীণ নারীদের জীবনসংগ্রামের সঙ্গে তাঁর নিবিড় পরিচয় ঘটে। জামালপুরের প্রকল্পটি ছিল সম্পূর্ণরূপে নারীকেন্দ্রিক। নানা ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে তিনি এ অঞ্চলের নারীদেরকে আয়বর্ধনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি প্রত্যক্ষ করেন নারীকর্মীদের পণ্যসামগ্রী বিপণনের কোনো ক্ষেত্র নেই, অথচ এসব সামগ্রী বাজারজাত করে সহজেই তাদেরকে অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতার পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। ভাবনার এই প্রেক্ষাপট থেকেই তিনি ‘আড়ং’ প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

১৯৮০ সালে এমসিসি-র কাছ থেকে আড়ং-এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ব্র্যাকের কাছে হস্তান্তরিত হয়। সে সময় থেকে জীবনের শেষ দু’টি বছর আয়েশা আবেদ আড়ং-এর প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আড়ং-এর ক্রমবিকাশ এবং প্রসারের এই সন্ধিক্ষণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আরও বেশি কর্মমুখর ও প্রাণচঞ্চল। এ সময়ই ঢাকার শিল্পকলা একাডেমীতে আয়োজিত ব্র্যাকের সাড়াজাগানো জামদানি প্রদর্শনী সফল করে তোলার জন্য তিনি অসম্ভব পরিশ্রম করেছিলেন।

আয়েশা আবেদের জীবন ছিল প্রকৃতই কর্মময়। তাঁর কর্মভাবনার মূলে ছিল এদেশের দরিদ্র মানুষ। একাধারে তিনি ছিলেন কর্মী, সংগঠক এবং পরিকল্পক, অন্যদিকে নিজের পরিবারপরিজন এবং বন্ধুদের কাছে তিনি ছিলেন স্নেহ এবং ভালোবাসার আশ্রয়। দক্ষতা, সততা এবং একনিষ্ঠতার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অতুলনীয়। মিষ্টভাষী, সদালাপী এই মানুষটির অন্তরে ছিল দেশের বঞ্চিত জনসমাজ বিশেষত নারীদের জন্য গভীর মমত্ববোধ ও সহমর্মিতা। এই ভালোবাসা শুধু অনুভবেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ করে দিয়ে, পরিবার ও সমাজজীবনে তাদের স্বীকৃতি ও সম্মান এনে দেওয়ার প্রচেষ্টায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

ব্র্যাকের সামগ্রিক কর্মধারায় তাঁর অংশগ্রহণ ছিল প্রত্যক্ষ এবং সার্বক্ষণিক। সংস্থার নীতিনির্ধারণ, কর্মসূচি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি সর্বদাই ফজলে হাসান আবেদের পাশে থেকে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছেন। ছোটবড় যে কোনো কাজেই তাঁর ছিল তীক্ষ্ম দৃষ্টি ও দায়িত্ববোধ। সেইসঙ্গে ছিল গভীর মানবিক অনুভব এবং সংবেদন। ফজলে হাসান আবেদের সঙ্গে তিনি বহু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Daily Amar Praner Habiganj
Theme Customized By Shakil IT Park